1 তখন ইয়োব উত্তর দিলেন:
2 “হ্যাঁ, আমি জানি তুমি যা বলছো তা সৎয|
3 একজন মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে পারে না!
4 ঈশ্বর প্রচণ্ড জ্ঞানী এবং তাঁর বিপুল ক্ষমতা|
5 ঈশ্বর যখন ক্রোধান্বিত হন তখন পর্বতগুলো কি হচ্ছে বোঝবার আগেই তিনি পর্বতদের সরিয়ে দেন|
6 পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেবার জন্য ঈশ্বর ভূমিকম্প পাঠান|
7 ঈশ্বর সূর্যের সঙ্গে কথা বলতে পারেন এবং সূর্যোদয় নাও হতে দিতে পারেন|
8 ঈশ্বর নিজেই আকাশ সৃষ্টি করেছেন|
9 “ঈশ্বরই বৃহৎ ভাল্লুকমণ্ডলী, সপ্তর্ষিমণ্ডল, কালপুরুষ এবং কৃত্তিকা সৃষ্টি করেছেন|
10 ঈশ্বর মহান সব কাজ করেন যা মানুষ বুঝে উঠতে পারে না|
11 দেখ, ঈশ্বর আমার পাশ দিয়ে চলে যান কিন্তু আমি তাঁকে দেখতে পাই না|
12 যদি ঈশ্বর কিছু নিয়ে যান
13 ঈশ্বর তাঁর রাগ দমন করবেন না|
14 তাই আমি ঈশ্বরের সঙ্গে তর্ক করতে পারি না| আমি জানি না তাঁকে কি বলতে হবে|
15 আমি নির্দোষ, কিন্তু আমি তাঁকে কোন উত্তর দিতে পারি না|
16 আমি যদি ঈশ্বরকে ডাকি এবং তিনি যদি উত্তর দেন,
17 অকারণে তিনি আমার দেহে প্রচুর ক্ষত দেবেন|
18 ঈশ্বর পুনর্বার আমায় নিঃশ্বাস নিতে দেবেন না|
19 এটা যদি শক্তির ব্যাপার হয়, নিশ্চয়ই তিনি অনেক বেশী শক্তিশালী|
20 আমি নিরপরাধ, কিন্তু আমার নিজের কথাই আমাকে অপরাধী করে তোলে|
21 আমি নির্দোষ, কিন্তু আমি জানি না কি ভাবতে হবে|
22 আমি নিজেকে বলি, ‘একই ঘটনা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে|
23 যখন ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটে এবং একজন নির্দোষ লোক মারা যায়, ঈশ্বর কি তার প্রতি বিদ্রূপের হাসি হাসেন?
24 যখন একজন দুষ্ট লোক রাজ্য শাসন করে, তখন কি ঘটছে, তা দেখা থেকে ঈশ্বর কি নেতাদের বিরত রাখেন?
25 “আমার দিন একজন দৌড়বাজের থেকেও দ্রুত চলে যাচ্ছে|
26 আমার দিনগুলি নৌকার মত দ্রুত চলে যাচ্ছে
27 “যদি আমি বলি, ‘আমি অভিযোগ করবো না, আমি আমার যন্ত্রণা ভুলে যাবো|
28 প্রকৃতপক্ষে এটা কোন কিছুকেই পরিবর্তিত করবে না|
29 আমি ইতিপূর্বেই অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছি|
30 যদি আমি নিজেকে তুষার দিয়ে ধুয়ে ফেলি
31 তবুও ঈশ্বর আমাকে কবরে শাস্তি দেবেন এবং তোমরা আমাকে আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেবে|
32 ঈশ্বর তো আমার মতো একজন মানুষ নন|
33 আমি মনে করি দুপক্ষের কথা শোনার জন্য একজন মধ্যপক্ষ মানুষের দরকার|
34 আমি মনে করি, ঈশ্বরের শাস্তিদানের দণ্ড কেড়ে নেওয়ার জন্য যদি কেউ থাকতো!
35 তাহলে, ঈশ্বরকে ভয় না করে, আমি যা বলতে চাই, তা বলতে পারতাম|