Juízes 19

BEN2006

1 সেই সময়, ইস্রায়েলীয়দের কোন রাজা ছিল না|

2 কিন্তু সে (দাসীটি) তার প্রতি অবিশ্বস্ত ছিল| সে বৈৎ‌লেহমে যিহূদায় তার পিতার বাড়ি চলে গেল| সে সেখানে চার মাস কাটালো|

3 তারপর তার স্বামী তার কাছে গেলো| সে তার সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই কথাবার্তা বলবে ঠিক করেছিল, এই আশায় যদি স্ত্রী তার কাছে ফিরে আসে| একজন ভৃত্য ও দুটো গাধা নিয়ে সে মেয়েটির পিতার বাড়ী গেল| তাকে দেখতে পেয়ে মেয়েটির পিতা বেরিয়ে এসে তাকে আদর করে ডাকল| পিতা তো বেশ খুশী হল|

4 মেয়ের পিতা লেবীয়টিকে তার বাড়িতে নিয়ে এল| তাকে সেখানে থাকবার জন্য বলল| লেবীয় সেখানে তিনদিন থেকে গেল| শ্বশুরবাড়িতে সে খাওয়া-দাওয়া, পান ভোজন করে আর ঘুমিয়ে দিন কাটাল|

5 চতুর্থ দিনে তারা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠল| লেবীয় লোকটি চলে যাবার জন্য প্রস্তুত হল| কিন্তু শ্বশুরমশাই জামাতাকে বলল, “আগে কিছু খেয়েদেয়ে নাও, তারপর যেও|”

6 তাই লেবীয় লোকটি ও শ্বশুরমশাই একসঙ্গে খেতে বসল| খাওয়া হয়ে যাবার পর শ্বশুর বলল, “আজকের রাতটা থেকে যাও| আরাম করো, আনন্দ করো| তারপর বিকেল হলে চলে যেও|” সুতরাং তারা দুজন একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করল|

7 লেবীয় তারপর যাবার উদ্যোগ করলে শ্বশুর তাকে আর একরাত্রি থাকতে অনুরোধ করল|

8 পঞ্চম দিনে ভোরবেলা লেবীয় ঘুম থেকে উঠে রওনা দেবার উদ্যোগ করল| কিন্তু শ্বশুর আবার জামাতাকে বলল, “আগে তো কিছু খাও| আজ বিকাল পর্যন্ত বিশ্রাম কর|” অতএব তারা দুজন একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করল|

9 তারপর লেবীয় লোকটি তার দাসী আর ভৃত্যের যাবার উদ্যোগ করলে শ্বশুর বলল, “এখন অন্ধকার হয়ে গেছে| দিন তো একরকম শেষ হয়ে গেছে| তাই বলছি কি, আজকের রাতটা থেকেই যাও| ভালভাবে রাতটা কাটাও| কাল সকাল সকাল উঠে চলে যেও|”

10 এবারে লেবীয় লোকটি আর রাত কাটাতে চাইল না| গাধা দুটো আর দাসীটিকে সঙ্গে নিয়ে সে দূরে যিবূষ শহরের দিকে চলে গেল| (যিবূষ জেরুশালেমের আর একটি নাম|)

11 দিন প্রায় শেষ হয়ে গেল| তারা যিবূষ শহরের কাছাকাছি পৌঁছাল| তখন ভৃত্যটি তার মনিব লেবীয় লোকটিকে বলল, “এই যিবূষ শহরে আজ রাত কাটানো যাক|”

12 কিন্তু তার মনিব লেবীয় লোকটি বলল, “না, আমরা অপরিচিত শহরের ভেতরে যাব না| ওরা তো ইস্রায়েলের লোক নয়| আমরা গিবিয়া শহরে চলে যাব|”

13 সে আরও বলল, “চলো গিবিয়া কি রামা–এই দুটো শহরের যে কোন একটায আমরা গিয়ে সেখানে রাত কাটিয়ে দিতে পারি|”

14 তাই লেবীয় লোকটি তার সঙ্গীকে নিয়ে এগিয়ে চলল| গিবিয়ায় পৌঁছবার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য অস্ত গেল| গিবিয়া হল বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর দখলে|

15 তারা গিবিয়ায় থামল| সেই শহরেই তারা রাত কাটাবে ঠিক করল| শহরের একটা খোলা জায়গায় তারা বসে পড়ল| কিন্তু কেউই তাদের বাড়িতে ডেকে এনে রাত কাটাবার জন্য বলল না|

16 সেদিন সন্ধ্যায় ক্ষেত থেকে একজন বৃদ্ধ লোক শহরে এল| তার বাড়ী ইফ্রয়িমের পাহাড়ী অঞ্চলে হলেও গিবিয়াতেই সে বসবাস করে| (গিবিয়ার লোকরা সকলেই বিন্যামীন পরিবারগোষ্ঠীর|)

17 বৃদ্ধ লোকটি শহরের কেন্দ্রস্থলে ঐ পথিক লেবীয়কে দেখতে পেল| সে জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা কোথায় যাবে? তোমরা কোথা থেকে আসছ?”

18 লেবীয় লোকটি বলল, “আমরা যিহূদার বৈৎ‌লেহম শহর থেকে আসছি| আমরা ইফ্রয়িমের পাহাড়ী দেশের সীমানায় বাড়ি যাচ্ছি| আমি যিহূদার বৈৎ‌লেহমে এবং প্রভুর গৃহে গিয়েছিলাম| এখন আমি বাড়ী ফিরে যাচ্ছি| কিন্তু আজ রাত্রে কেউই আমাকে তার বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে নি|

19 গাধাগুলোর জন্য খড় আর খাদ্য আমাদের সঙ্গে আছে| ভৃত্য, যুবতী স্ত্রী আর আমার জন্য রুটি আর দ্রাক্ষারসও রয়েছে| আমাদের কোন কিছুর অভাব নেই|”

20 বৃদ্ধ লোকটি বলল, “তোমরা আমার বাড়িতে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারো| তোমাদের যা দরকার সব দেবো| শুধু একটাই কথা, রাত্রে ঐ খোলা মাঠে যেন তোমরা থেকো না|”

21 এরপর বৃদ্ধলোকটা লেবীয় ও তার সঙ্গীসাথীদের তার বাড়ি নিয়ে গেল| সে তাদের গাধাগুলোকে খাওয়াল| তারা পা ধুয়ে পানাহার সেরে নিল|

22 এদিকে, সঙ্গীদের নিয়ে লেবীয় লোকটি যখন আমোদ-ফূর্তি করছিল, তখন শহরের কিছু বদলোক বাড়িটা ঘিরে ফেলল| তারা দরজায় ধাক্কা মারতে লাগল| তারা বাড়ির মালিক ঐ বৃদ্ধ লোকটার নাম ধরে চিৎকার করতে লাগল| তারা বলল, “তোমার বাড়ি থেকে ঐ লোকটাকে বার করে দাও| আমরা ওর সঙ্গে যৌন কার্য করবো|”

23 বৃদ্ধলোকটি বেরিয়ে এসে বদলোকগুলোকে বলল, “শোন বন্ধুরা, অমন মন্দ কাজ কোরো না| লোকটি আমার অতিথি| এরকম জঘন্য পাপ কাজ করো না|

24 এদিকে দেখ, এ হচ্ছে আমার মেয়ে| একটি কুমারী| একে আমি তোমাদের জন্য বার করে আনব| তোমরা যেভাবে খুশী একে ব্যবহার করো, আমি তার উপপত্নীকেও তোমাদের জন্য বার করে আনব| তার সঙ্গে এবং আমার মেয়ের সঙ্গে যা খুশী করো আপত্তি করব না| কিন্তু আমার অতিথির বিরুদ্ধে তোমরা এমন জঘন্য পাপ কাজ করো না|”

25 কিন্তু বদ লোকগুলো সেসব কথায় কান দিল না| শেষ পর্যন্ত লেবীয় লোকটি তার দাসী বা উপপত্নীকে বাড়ি থেকে বার করে তাদের কাছে এনে দিল| তারা তাকে আঘাত করল এবং সারারাত ধরে ধর্ষণ করল| ভোর বেলায় তাকে ছেড়ে দিল|

26 রাত পোয়ালে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে এল| যেখানে তার স্বামী ছিল| তার দোরগোড়ায় সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল| দিনের বেলা পর্যন্ত সে সেখানে এইভাবে পড়ে রইল|

27 পরদিন খুব সকালে লেবীয় লোকটি ঘুম থেকে উঠল| বাড়ি যেতে হবে এবার| বেরবে বলে দরজা খুলল, আর সেখানে চৌকাঠের উপর একটা হাত এসে পড়ল| পড়ে রয়েছে তার দাসী| দরজার গোড়ায় সে পড়ে আছে|

28 লেবীয় লোকটি তাকে বলল, “ওঠো আমাদের যেতে হবে|” কিন্তু কোনো সাড়া মিলল না| সে মারা গিয়েছিল|

29 বাড়ি ফিরে সে একটি ছুরি দিয়ে দাসীটির দেহকে কেটে 12টি টুকরো করল| তারপর ইস্রায়েলীয়রা যে সব জায়গায় বাস করত সে সব জায়গায় ঐ 12টি টুকরো পাঠিয়ে দিল|

30 যারা দেখল তারা প্রত্যেকেই বলল, “এরকম কাণ্ড ইস্রায়েলে আগে কখনও ঘটে নি| যেদিন আমরা মিশর থেকে চলে আসি সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এরকম কাজ কখনও হয় নি এবং দেখাও যায় নি| এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে| ঠিক করতে হবে আমাদের কি করা উচিৎ‌|”

Ler em outra tradução

Comparar lado a lado