1 “যিহূদার মেষপালকদের পক্ষে এটা খারাপ হবে| এই মেষপালকরা আমার মেষদের আহত করছে| তারা চারদিক থেকে এই মেষদের তাড়িয়ে আমার শস্যের কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে|” এই হল প্রভুর বার্তা|
2 এই মেষপালকরা (নেতৃবৃন্দ) আমার মেষদের (লোকদের) জন্য দায়ী এবং প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর ঐ মেষপালকদের বললেন: “তোমরা মেষপালকরা আমার মেষদের চতুর্দিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেছ| এবং তোমরা তার রক্ষণাবেক্ষণ করনি| কিন্তু আমি তোমাদের দেখে নেব| তোমাদের মন্দ কাজের জন্য আমি তোমাদের শাস্তি দেব|” এই হল প্রভুর বার্তা|
3 “আমি আমার মেষদের অন্য দেশে পাঠিয়ে দেব| তারপর ঐ বিদেশগুলোর থেকে আমি আমার বাকী মেষগুলিকে জড়ো করব এবং যে সমস্ত মেষরা পড়ে থাকবে, তাদের আমি একত্রিত করে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনব| তারা যখন স্বদেশে ফিরবে তখন তাদের সন্তানরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে|
4 আমি তাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন মেষপালক রাখব এবং তাহলে আমার কোন মেষই ভয় পাবে নাবা হারিয়ে যাবে না|” এই হল প্রভুর বার্তা|
5 প্রভু এই বার্তা বলেন,
6 তার রাজত্বের সময়, যিহূদা রক্ষা পাবে
7 “সেই সময় আসছে,” এই হল প্রভুর বার্তা, “যখন লোকরা আর প্রভুর পুরানো প্রতিশ্রুতির কথা বলবে না| পুরানো প্রতিশ্রুতি হল: ‘যেহেতু প্রভুর অস্তিত্ব নিশ্চিত, প্রভু তিনিই, যিনি সমস্ত ইস্রায়েলবাসীকে মিশর থেকে নিয়ে এসেছিলেন|’
8 কিন্তু লোকরা এখন নতুন কথা বলবে| তারা বলবে, ‘প্রভুর অস্তিত্ব যেমন নিশ্চিত, তিনিই হলেন সেই একজন যিনি সমস্ত ইস্রায়েলের লোকদের উত্তরদেশ থেকে বের করে এনেছিলেন| তিনি তাদের যে সব দেশে পাঠিয়েছিলেন, সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছিলেন|’ তখন থেকে ইস্রায়েলবাসী তাদের নিজেদের দেশে বসবাস শুরু করল|”
9 ভাববাদীদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা:
10 যিহূদার মাটি ব্যাভিচারীদের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে ভরে গেছে|
11 “ভাববাদীরা তো বটেই,
12 “আমি যদি ভাববাদীদের এবং যাজকদের আমার বার্তা দেওয়া বন্ধ করি,
13 “শমরিয়ার ভাববাদীদের অন্যায় করতে দেখেছি|
14 এখন দেখছি যিহূদার ভাববাদীরা
15 সুতরাং প্রভু সর্বশক্তিমান ভাববাদীদের সম্বন্ধে যা বলেন তা হল এই:
16 সর্বশক্তিমান প্রভু এই কথাগুলি বলেন:
17 কিছু লোক প্রভুর সৎয বার্তাকে ঘৃণা করে
18 কিন্তু ঐ ভাববাদীদের কেউই স্বর্গীয় সভায় দাঁড়ায়নি|
19 এখন প্রভুর কাছ থেকে ঝড়ের মতো শাস্তি আসবে|
20 পরিকল্পনা মাফিক কাজ শেষ না করে
21 আমি ঐ ভাববাদীদের পাঠাইনি|
22 তারা যদি আমার স্বর্গীয় সভায় দাঁড়াতো,
23 “আমিই ঈশ্বর|
24 কেউ গোপন জায়গায় লুকিয়ে থাকলেও
25 “ঐ ভাববাদীরা আমার নাম দিয়ে মিথ্যে ধর্মোপদেশ প্রচার করেছে| তারা বলেছে, ‘আমি স্বপ্নাদেশ পেয়েছি! আমি স্বপ্নাদেশ পেয়েছি!’ আমি তাদের ঐ কথাগুলো বলতে শুনেছি|
26 আর কতদিন এভাবে চলবে? ঐ ভাববাদীরা মিথ্যা রচনা করে এবং লোকদের মিথ্যা শিক্ষা দেয়|
27 ঐ ভাববাদীরা চেষ্টা করল যাতে যিহূদার লোকরা আমার নাম ভুলে যায়| তারা তাদের মিথ্যে স্বপ্নাদেশের কথা বলে বেড়াতে লাগল| যে ভাবে তাদের পূর্বপুরুষরা আমাকে ভুলে গিয়েছিল, সেই ভাবে তারা আমার লোকদের আমাকে ভুলে যাওয়াতে চেষ্টা করছে| তাদের পূর্বপুরুষরা আমাকে ভুলে ভ্রান্ত দেবতার পূজা করেছিল|
28 খড় আর গম যেমন এক জিনিস নয়, তেমনি ভাববাদীদের স্বপ্নাদেশ আর আমার বার্তাও এক নয়| কেউ যদি নিজেদের দেখা স্বপ্নকে বলে বেড়াতে চায় তা সে বলুক| কিন্তু এজন লোক যদি আমার বার্তা শোনে, তাকে সে কথা সত্যি করে বলতে হবে|
29 আমার বার্তা হল আগুনের মতো|” এই হল প্রভুর বার্তা| “আমার বার্তা হল পাথরে আছড়ে পড়া হাতুড়ি, যা পাথরকেও গুঁড়িয়ে দেয়|
30 “সুতরাং আমি ঐ কপট ভাববাদীদের বিরুদ্ধে|” ঐ ভাববাদীরা একে অন্যের কাছ থেকে আমার বাণীসমূহ চুরি করে চলেছে| এই হল প্রভুর বার্তা|
31 “আমি মিথ্যা ভাববাদীদের বিরুদ্ধে|” এই হল প্রভুর বার্তা, “তাদের নিজেদের কথাগুলোকে আমার বার্তা বলে তারা লোক ঠকাচ্ছে|
32 আমি ঐ কপট ভাববাদী এবং তাদের মিথ্যে স্বপ্ন ও মিথ্যে ধর্মোপদেশ প্রচারের বিরুদ্ধে|” এই হল প্রভুর বার্তা| “তারা তাদের মিথ্যে ছলনা ও ভ্রান্ত শিক্ষা দিয়ে আমার লোকদের ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে| আমি ঐ ভাববাদীদের লোককে শিক্ষা দিতে পাঠাই নি| আমি তাদের আমার জন্য কিছু করার নির্দেশ দিইনি| তারা যিহূদার লোকদের কোন ভাবেই সাহায্য করতে পারবে না|” এই হল প্রভুর বার্তা|
33 “যিহূদার লোকরা ভাববাদী অথবা কোন যাজক হয়তো তোমাকে জিজ্ঞেস করবে, ‘যিরমিয়, প্রভুর ঘোষণা কি?’ তুমি ওদের উত্তরে বলবে, ‘তোমরা হলে প্রভুর কাছে ভারী বোঝা এবং আমি ঐ ভারী বোঝা ছুঁড়ে ফেলব|’” এই হল প্রভুর বার্তা|
34 “কোন ভাববাদী, কোন যাজক অথবা কোন একজন সাধারণ লোক হয়তো বলতে পারে, ‘এই হল প্রভুর ঘোষণা|’ যে একথা বলবে সে মিথ্যেবাদী এবং আমি তাকে ও তার পরিবারকে শাস্তি দেব|
35 তোমরা একে অপরকে বলবে: ‘প্রভু কি উত্তর দিলেন?’ অথবা ‘প্রভু কি বললেন?’
36 কিন্তু তোমরা আর কখনও এই অভিব্যক্তিটি ব্যবহার করবে না: ‘প্রভুর ঘোষণা (ভারী বোঝা|)’ একথা খবরদার উচ্চারণ কোরো না কারণ প্রভুর ঘোষণা কখনও কারও ক্ষেত্রে ভারী বোঝা হয় না| কিন্তু তোমরা আমাদের ঈশ্বরের কথায় পরিবর্তন ঘটিয়েছ| তিনি জীবন্ত ঈশ্বর, তিনি প্রভু সর্বশক্তিমান|
37 “তোমরা যদি ঈশ্বরের বার্তা জানতে চাও তাহলে কোন ভাববাদীকে জিজ্ঞেস করো| ‘প্রভু আপনাকে কি উত্তর দিয়েছেন?’ অথবা ‘প্রভু কি বলেছেন?’
38 কিন্তু একথা বলো না, ‘প্রভুর ঘোষণা (ভারী বোঝা) কি ছিল?’ যদি তোমরা আবার এই কথার পুনরাবৃত্তি করো তাহলে প্রভু তোমাদের উদ্দেশ্যে এগুলি বলবেন: “তোমরা আমার বার্তাকে ভারী বোঝা বলে উল্লেখ করবে না|” আমি তোমাদের এই শব্দ ব্যবহার করতে বারণ করছি|
39 কিন্তু তোমরা যদি আমার বার্তাকে ভারী বোঝা বলে উল্লেখ করো তাহলে আমিও তোমাদের এবং ঐ শহরটিকে ভারী বোঝা বলে মনে করে আমার কাছ থেকে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেব| আমি তোমাদের পূর্বপুরুষকে এই জেরুশালেম শহর দিয়েছিলাম| কিন্তু আমি তোমাদের এই শহর থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেব|
40 আমি তোমাদের চির কালের জন্য অপদস্থ করব এবং তোমরা কোন দিন তোমাদের বিব্রত অবস্থাকে ভুলতে পারবে না|