1 Reis 19

BEN2006

1 রাজা আহাব রাণী ঈষেবলকে এলিয়় যা যা করেছেন, যে ভাবে সমস্ত ভাববাদীদের তরবারি দিয়ে হত্যা করেছেন সবই বললেন|

2 ঈষেবল তখন এলিয়়র কাছে দূত মারফৎ খবর পাঠালেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি আগামীকাল এসময়ের আগে তুমি যে ভাবে ঐ ভাববাদীদের হত্যা করেছ ঠিক সে ভাবেই তোমাকে হত্যা করব| আর যদি তা না পারি তাহলে যেন দেবতারা আমায় হত্যা করেন|”

3 এলিয়় যখন একথা শুনলেন তখন ভয়ে তিনি তাঁর প্রাণ বাঁচাতে ভৃত্যকে সঙ্গে নিয়ে যিহূদার বেরশেবাতে পালিয়ে গেলেন| তাঁর ভৃত্যকে বেরশেবাতে রেখে

4 এলিয়় সারাদিন হেঁটে হেঁটে অবশেষে মরুভূমিতে গিয়ে পৌঁছলেন| সেখানে একটা কাঁটা ঝোপের তলায় বসে তিনি মৃত্যু প্রার্থনা করে বললেন, “প্রভু যথেষ্ট হয়েছে| এবার আমাকে মরতে দাও| আমি আমার পূর্বপুরুষদের অপেক্ষা কোনো অংশেই ভালো নই|”

5 এরপর এলিয়় সেই ঝোপের তলায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন| এসময় এক দেবদূত এসে এলিয়়কে স্পর্শ করে বলল, “ওঠো এলিয়়, খেয়ে নাও!”

6 এলিয়় দেখতে পেলেন তাঁর পাশেই কয়লার ওপরে এক খানা কেক বানানো আছে আর এক ঘড়া জল রাখা আছে| এলিয়় তা খেয়ে জল পান করে আবার ঘুমিয়ে পড়লেন|

7 পরে আবার প্রভুর দূত ফিরে এসে তাঁকে বলল, “ওঠো এলিয়়! কিছু খাও! সামনে লম্বা সফর, যদি তুমি খেয়ে গায়ে জোর না বাড়াও পাড়ি দিতে পারবে না|”

8 এলিয়় তখন উঠে পানাহার করলেন| সেই খাবার এলিয়়কে একটানা 40 দিন 40 রাত্রি হাঁটার মতো শক্তি জোগালো| হাঁটতে হাঁটতে তিনি ঈশ্বরের পর্বত নামে পরিচিত হোরেব পর্বতে গিয়ে পৌঁছলেন|

9 সেখানে একটি গুহার ভেতরে এলিয়় রাত্রি বাস করলেন|

10 এলিয়় উত্তর দিলেন, “প্রভু ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, আমি সব সময় সাধ্য মতো তোমার সেবা করেছি| কিন্তু ইস্রায়েলের লোকরা তোমার সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করে তোমার বেদী ধ্বংস করে ভাববাদীদের হত্যা করেছে| এখন আমিই একমাত্র জীবিত ভাববাদী আর তাই ওরা আমাকেও হত্যার চেষ্টা করছে|”

11 প্রভু তখন এলিয়়কে বললেন, “যাও পর্বতে গিয়ে আমার সামনে দাঁড়াও| আমি ঐ জায়গা দিয়ে যাব|” তখন ঝোড়ো হাওয়া এসে পর্বতটাকে ভেঙ্গে দ্বিখণ্ডিত করল, বড় বড় পাথরের চাঁই খসে পড়ল, কিন্তু সেই ঝড়ের মধ্যে প্রভু ছিলেন না| ঝড়ের পর হল ভূমিকম্প| কিন্তু সেই ভূমিকম্পও প্রভু স্বয়ং নন|

12 ভূমিকম্পের আগুন জ্বলে উঠল| কিন্তু আগুনের মধ্যেও প্রভু ছিলেন না| আগুন নিভিয়ে দেওয়া হল| একটি শান্ত, কোমল স্বর শোনা গেল|

13 এলিয়় যখন স্বরটা শুনতে পেলেন তখন তিনি তাঁর শাল দিয়ে তাঁর মুখ ঢেকে দিলেন| তারপর তিনি গিয়ে গুহার প্রবেশ মুখে দাঁড়ালেন| একটি স্বর তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “এলিয়়, তুমি এখানে কেন?”

14 এলিয়় বললেন, “প্রভু, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, আমি সব সময়ই আমার সাধ্য মতো তোমার সেবা করে এসেছি কিন্তু ইস্রায়েলের লোকরা তোমার সঙ্গে তাদের চুক্তিভঙ্গ করেছে| তারা তোমার পূজোর বেদী ধ্বংস করে সমস্ত ভাববাদীদের হত্যা করেছে| এখন আমিই একমাত্র জীবিত আছি| আর ওরা আমাকে হত্যার চেষ্টা করছে|”

15 প্রভু বললেন, “যাও দম্মেশকের পাশের মরুভূমির দিকে যে রাস্তা যাচ্ছে সেটা ধরে দম্মেশকে গিয়ে হসায়েলকে অরামের রাজপদে অভিষিক্ত করো|

16 তারপর নিম্শির পুত্র যেহূকে ইস্রায়েলের রাজপদে অভিষেক করো| আর আবেলমহোলার শাফটের পুত্র ইলীশায়কেও অভিষেক করো| সে ভাববাদী হিসেবে তোমার জায়গা নেবে|

17 হসায়েল বহু খারাপ লোককে হত্যা করবে| হসায়েলের হাত থেকে যারা বেঁচে যাবে তাদের যেহূ হত্যা করবে| আর যেহূর তরবারি থেকেও যদি কেউ নিস্তার পেয়ে যায় তাকে ইলীশায় হত্যা করবে|

18 এলিয়় ইস্রায়েলে তুমিই একমাত্র একনিষ্ঠ ভাবে আমার সেবা করো নি| সেখানে আরো 7000 লোক আছে যারা কখনও বাল মূর্ত্তির কাছে মাথা নত করে নি এবং এরা কখনও বাল মূর্ত্তি চুম্বন করে নি|”

19 এলিয়় তখন শাফটের পুত্র ইলীশায়কে খুঁজতে বেরোলেন| ইলীশায় তখন 12 বিঘা জমিতে হাল দিচ্ছিলেন| এলিয়় যখন এলেন তখন ইলীশায় শেষ এক বিঘা জমিতে হাল দিচ্ছিলেন| এলিয়় গিয়ে ইলীশায়ের গায়ে নিজের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরিয়ে দিলেন|

20 ইলীশায় ষাঁড়কে ছেড়ে রেখে এলিয়়র পেছনে ছুটে এসে বললেন, “আমাকে অনুমতি দিন, আমি একবার গিয়ে আমার মাকে আদর করে আসি এবং পিতার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসি| তারপর আমি আপনার সঙ্গে যাবো|”

21 ইলীশায় তখন বাড়িতে গিয়ে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দারুণ খাওয়া-দাওয়া করলেন| তাঁর গরুগুলোকে মেরে যোয়ালের কাঠ জ্বালিয়ে মাংস সেদ্ধ করে লোকদের খাওয়ালেন এবং নিজেও খেলেন| তারপর ইলীশায় এলিয়়কে অনুসরণ করলেন এবং তাঁর পরিচর্য্যা করতে লাগলেন|

Ler em outra tradução

Comparar lado a lado